ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামা আমদানিতে শুল্ক কমালেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামা আমদানির শুল্কনীতিতে বড় পরিবর্তন এনেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

নতুন সিদ্ধান্তে এসব ধাতু দিয়ে তৈরি বিভিন্ন পণ্যের আমদানি শুল্ক কমানো হয়েছে। মূলত শুল্ক ব্যবস্থা সহজ করা ও আমদানিকারকদের তথ্য গোপনের সুযোগ বন্ধ করতেই ট্রাম্প প্রশাসন এ পদক্ষেপ নিয়েছে। খবর রয়টার্স।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ বিষয়ে একটি ঘোষণাপত্রে সই করেছেন। সেখানে জানানো হয়, ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ২৩২’-এর অধীনে ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার ওপর ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক বহাল থাকবে। তবে এখন থেকে শুল্কের হার নির্ধারণ করা হবে মার্কিন ক্রেতাদের দেয়া দামের ওপর ভিত্তি করে।

হোয়াইট হাউজের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, আগে কিছু আমদানিকারক শুল্ক ফাঁকি দিতে পণ্যের দাম কৃত্রিমভাবে কম দেখাতেন। নতুন এ নিয়ম কার্যকর হলে জালিয়াতি বন্ধ করা সম্ভব হবে।

নতুন এ ঘোষণায় শুল্ক কাঠামোতে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে কোনো পণ্যে ধাতুর পরিমাণ ওজনে ১৫ শতাংশের কম হলে কোনো শুল্ক দিতে হবে না। আগে এক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর ছিল, যা এখন পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে পারফিউমের বোতলের অ্যালুমিনিয়াম ক্যাপ বা ডেন্টাল ফ্লস কনটেইনারের ছোট্ট স্টিল ব্লেডের মতো পণ্যে আর বাড়তি শুল্ক লাগবে না।

শিল্পায়ন দ্রুত করার লক্ষ্যে ভারী শিল্প ও বৈদ্যুতিক গ্রিডের যন্ত্রপাতির ওপর বড় ছাড় দেয়া হয়েছে। এ ধরনের পণ্যের আমদানি শুল্ক ৫০ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। নতুন এ হার ২০২৭ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। বিশেষ করে জার্মানি ও ইতালিতে তৈরি ইস্পাত কারখানার যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা পাবেন।

যেসব পণ্যে ধাতব উপাদানের পরিমাণ ১৫ শতাংশের বেশি, সেগুলোর জন্য ২৫ শতাংশ ফ্ল্যাট রেট বা একক শুল্কহার নির্ধারণ করা হয়েছে। যেমন—সম্পূর্ণ ইস্পাতের তৈরি কোনো ওয়াশিং মেশিন বা গ্যাস চুলা আমদানি করলে এখন থেকে পুরো মূল্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। অন্যদিকে বিদেশে তৈরি কোনো পণ্যে যদি শতভাগ আমেরিকান কাঁচামাল (ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম বা তামা) ব্যবহার করা হয়, তবে আমদানিকারককে মাত্র ১০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ট্রাক্টরের যন্ত্রাংশ থেকে শুরু করে ট্রেনের সরঞ্জাম পর্যন্ত হাজার হাজার পণ্যের ধাতব উপাদানের মূল্য বের করা আমদানিকারকদের জন্য বেশ জটিল ছিল। নতুন এ নিয়ম অত্যন্ত সহজ ও স্বচ্ছ। এতে সার্বিক অর্থনীতিতে বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। বরং এর মাধ্যমে শুল্ক ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী হবে।

আরও